ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 954
৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা ছবির ক্যাপশন : হত্যার শিকার সোহাগ মুন্সী

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানান, বাংলাদেশে রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী। ইতালি গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ। প্রথমে তাকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দি করে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। 

একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও দুই লাখ টাকা নিলেও সোহাগকে ফেরত না পাঠিয়ে গত ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরও ২৭ লাখ টাকা। ২৪ জুলাই সকাল ৮ টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা। পরে বুধবার (২৯ জুলাই) তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।  শুধু সোহাগ মুন্সীই নয়, এখনো লিবিয়ায় ওই মানবপাচারকারী মাফিয়াদের হাতে জিম্মি রয়েছে আরও ১১ যুবক। মানবপাচারকারী দালাল ও মাফিয়াদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ নিহত সোহাগের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান। তবে মূল হোতারা অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে আছে তারা প্রতিমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে, যে কারণে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। 


নিউজটি পোস্ট করেছেন : এন.এম.আই.এম নিউজ

কমেন্ট বক্স